ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন ২০১৯ , ১০ই আষাঢ় ১৪২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৬

রাখাল বালকের ৬০ বছর

এক.

আমার দুই দাদী। বাবা যখন ক্লাস থ্রীতে পড়ে তখন রমযান মাসে বড় দাদী মারা যান। সম্ভবত ১৪ই রমযান অথবা ১৭ই রমযান ছিল দিনটা। গর্ভবতী ছিলেন, ট্রান্সলেশনের জন্য পড়া ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মারা গেল’র স্বার্থক উদাহরন হয়ে গেলেন তিনি। এরপর দাদাভাই আবার বিয়ে করেন। ছোট দাদীও ক্যান্সারে মারা যান ২০০৫ সালে। দুই দাদীর একজনও ৬০ বছর বাঁচতে পারেন নাই।

৬০ বছর, অনেক লম্বা সময়। ছোট বেলায় আমি সবসময় মৃত্যুকে ভয় পেতাম। একবার আমাকে কে যেন জিজ্ঞেস করেছিল আমার জীবনের লক্ষ্য কি। বলেছিলাম ২০০ বছর বাঁচতে চাই। এরপর উনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ২০০ বছর বাঁচার পর কি বাঁচার ইচ্ছার শেষ হয়ে যাবে কিনা। আমতা আমতা করে কি উত্তর দিয়েছিলাম মনে নেই, তবে নিশ্চিত যে ২০০ বছর বাঁচার পরও বাঁচার ইচ্ছা বিন্দুমাত্র কমবে না। তবে বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

যেটা বলছিলাম সেটা ৬০ বছর নিয়ে। অনেক লম্বা সময় ৬০ বছর। বাংলাদেশের বহু মানুষ ৬০ বছর বাঁচতে পারেন না যদিও গড় আয়ু ৬৫ প্রায়। আমাদের ধর্মগুরু নবী মুহম্মদও (সা) সর্বসাকুল্যে বেঁচেছিলেন ৬৩ বছর। এরকম দীর্ঘ একটা সময় ধরে এদেশের খেয়ে পড়ে বাস করছে ছাত্র ইউনিয়ন। ৬৩ বছর ধরেই। ২০১২ সালে তাদের সংগঠনের ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমার দুই দাদীসহ বাংলাদেশের বহু মানুষ যতদিন বাঁচতে পারে না তার চেয়ে বেশীদিন ধরে বেঁচে আছে এই সংগঠনটি। ৬০ বছর, আসলেই অনেক লম্বা সময়।

দুই.

ছোট বেলায় সাইকেল কিনতে বংশাল গিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় দেয়ালে খুব সুন্দর ফন্টে কিছু লেখা দেখেছিলাম। সবে বানান করে বাংলা পড়তে শিখেছিলাম। ‘যয়ে রস্যুকারের যু, ‘দ্ধ’- মা, এটার মানে কি?’ এভাবে বহু কষ্টে পড়েছিলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। শিক্ষা কোন পন্য নয়, উচ্চশিক্ষার উপর ভর্তুকি বাড়াও, শিক্ষার বানিজ্যিকিকরন বন্ধ কর, শিক্ষার বেসরকারীকরন বন্ধ কর- অনেক অনেক লেখা। বিশ্বাস করুন, একটা লেখারও মানে আমি বুঝতে পারিনি সেদিন। বুঝতে পারার কথাও না। তবে লেখাগুলো মনে আছে। আর মনে না থাকবেই বা কি করে বলুন? এই একই লেখা তো জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি। ষাটের দশকে জন্ম নিলে হয়ত তখনও এই একই লেখাই দেখতাম।

ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র সংগঠন। প্রথমে ভেবেছিলাম সিপিবি-বাসদকে দিয়ে শুরু করব। এরপর ভাবলাম জাসদ। তারপর মনে হল ওয়ার্কার্স পার্টি। আওয়ামী লীগের একাংশকে নিয়ে লেখার কথাও মাথায় এসেছিল। সবগুলো মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে লেখা শুরু করেছিলামও। কিন্তু লেখার মাঝপথে গিয়ে বুঝতে পারছিলাম সমস্যার গোঁড়াতে এখনো পৌঁছুতে পারি নাই। এমনসময় বাসায় কলিং বেল বাজল। যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে ১০ লক্ষ লোকের গনস্বাক্ষর অভিযানের কাজে ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন ভাইয়া আর একজন আপু বাসায় এসেছেন। মন দিয়ে শুনলাম। কিন্তু স্বাক্ষর দিতে অপারগতা জানালাম। কেন অপারগ হলাম, এটা হয়ত অন্য কোথাও বলব। আজ বলার সুযোগ নেই। সেখান থেকেই মনে হল সমস্যার মূল হচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন। জাসদ, বাসদ-সিপিবি কিংবা ওয়ার্কার্স পার্টি তো আসলে ছাত্র ইউনিয়নেরই অপভ্রংশ। আওয়ামী লীগের যে অংশটা মার্ক্সবাদের বিষে নীল সেটাও তো ছাত্র ইউনিয়নেরই অবদান। বিটিভিতে প্রচার হওয়া ইবনে সিনার ঐ বিজ্ঞাপনের মত করে বলা যায়- অযথা বাড়তি শব্দ কেন লিখবেন?

তিন.

আমরা ছোটবেলায় রাখাল বালকের গল্প পড়েছি। বাঘে ধরেছে, বাঁচাও বলে চিতকার দিয়ে লোক ঠকানোর গল্প শুনেছি। একবার, দুইবার মানুষ ঠকেছে। কিন্তু তিনবারের বেলায় মানুষ আর দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথায় ঠকতে যায়নি, যদিও এবারের ঘটনা সত্য ছিল। এই গল্পের প্রভাবেই কিনা আমরা এখন বারবার ছাত্র ইউনিয়ন গংদের মিষ্টি কথায় বারবার বেলতলায় যাচ্ছি। যদি এইবার সত্যি হয়, এরকম একটা আশা মনে নিয়ে।

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন। শিক্ষার ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করেছেন তিনি। খুব, বহোত খুব। তা তিনি করতেই পারেন। কিন্তু যেটা ছাত্র ইউনিয়ন করতে পারে না সেটা হচ্ছে বুর্জোয়া সরকারের সাথে আঁতাত-অভিসার।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, আজকের সরকারের শিক্ষামন্ত্রী, আমার দেখা খুব সত একজন রাজনীতিবিদ নুরুল ইসলাম নাহিদ। যদিও শিক্ষাখাতকে ধ্বংস করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নাহিদ টাকলা’খ্যাত এই মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য, তথাপি ঘুষ-দুর্নীতির রাজনীতিতে তিনি অন্তত নিজেকে যে দুর্নীতিমুক্ত রেখেছেন এটাই বা কম কিসে? ছাত্র ইউনিয়নের আরো দুইটি পন্য লেলিন এবং আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজে স্বয়ং। মাল আঙ্কেল আওয়ামী-কমিউনিস্ট জোট সরকারের ক্যাবিনেট মিনিস্টার, হেভিওয়েট নেতা। এবং শিক্ষার বানিজ্যিকীকারক  ছাত্র ইউনিয়নের সমমনা হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান খান, মতিয়া চৌধুরীও আওয়ামী-কমিউনিস্ট জোট সরকার ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে গাড়ির ফ্ল্যাগস্টান্ডে জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন।

যখন ছাত্র ইউনিয়ন ফ্যাক্টরি হতে উতপন্ন পন্য আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেই শিক্ষার বানিজ্যিকীকরন করেন তখন ঐ দেয়াল লিখনগুলো আর এধরনের আবেগী বক্তৃতা দিয়ে বিশ জনের বি-শা-ল মহাসমাবেশ কাঁপানো শব্দ দূষনের সাথে রাখাল বালকের মিল খুঁজে পাওয়া গেলে আমার দোষ কোথায় বলুন? আমি নিতান্তই ছাপোষা ছাত্র। বছর খানেক বাদে স্রষ্টা চাহে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করব। তাই শুধু হিসেব করছিলাম কারা আমার বাপের পকেটের টাকা কাইড়া নিতে চায়।

চার.

সপ্তাহখানিক আগে এনাম মেডিক্যালের মুযাক্কির ভাই ফোন দিয়েছিলেন। ওনার এক ফ্রেন্ড পড়ে সেন্ট্রাল মেডিক্যালে। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল আমার বাসার ঠিক পাশেই। বেচারা টাকার অভাবে পড়াশোনার ফী তো দূরের কথা থাকা-খাওয়ার খরচও মেটাতে পারছে না। এলাকায় আমার পরিচিত কোন ছেলে আছে কিনা টিউশনির জন্য, এটাই জানতে চাচ্ছেন। আমি জানি না ঐ ভাইয়াটার বাবা বেঁচে আছেন কিনা। থাকলে ১০% ভ্যাটের খবর শুনে স্ট্রোক করেছেন কিনা তাও জানি না। শুধু জানি, ওঁরা ভাল নেই। ভাল নেই আমরা, ভাল নেই বাংলাদেশ।

সবসময় এই ভাল না লাগাটা খারাপ না। শ্রদ্ধেয় শামীম ওসমান সাহেব যখন গুম করেন তাতে খারাপ লাগে না। কিংবা পাপিয়া ম্যাডাম যখন সংসদে শালীন বক্তব্য দেন তখনও খারাপ লাগে না। কিন্তু যখন শুনি জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম তখন মনটা খারাপ হয়। বিষয়টা খতিয়ে দেখতে ইচ্ছা হয়। সত্য হলে বিষন্ন লাগে। আর মিথ্যা হলে? সেটা তো ২০০৫ সাল থেকে দেশের সবক’টি প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স আর পেইড ব্লগার-ফেসবুকারদের মুখ থেকে শুনতে শুনতে অভ্যস্ত। মনে মনে একটা অশ্রাব্য গাল আসে, মনে মনেই গাল দিই। এরপর স্বাভাবিকভাবেই ভুলে যাই।

ঠিক এভাবেই ছাত্র ইউনিয়ন আর কমিউনিস্টদের ভন্ডামীগুলো কষ্ট দেয়। এই সফেদ পাঞ্জাবীর কিন্তু একটা ইতিহাস আছে। সাদা পাঞ্জাবী পড়া কমিউনিস্টদের দেখে আপনাদের কি মনে হয় জানি না, আমি শুধু এটা কোন ব্রান্ডের পাঞ্জাবী আর এরকম সাদা পাঞ্জাবী এদের বাসায় কয়টা আছে সেই অঙ্ক কষি। এই শুয়োর প্রজাতির বিবর্তিত কুকুরগুলো দেয়ালে লিখবে শিক্ষা আমার অধিকার, আর রাতের আঁধারে বুর্জোয়া আওয়ামী লীগের সাথে রাশান ভদকার দাম গুনবে। এই ভন্ডামি আমি সহ্য করতে পারি না। এই ভন্ডগুলো কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলবে আর এই সারমেয়গুলোই দেওয়ানবাগীর সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যাবে। শহীদ মিনারে পিয়াস করিমের লাশ নিয়ে এদের যত আপত্তি, বাংলা একাডেমীর পাশেই যে এরা লালসালুওয়ালা মাজার রেখে দিয়েছে তাতে কোন সমস্যা নাই। এরা সুস্থ ধারার শিক্ষানীতির কথা বলার জন্য মালেককে কোপাতে রাজি আছে, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা, হোক তা অসুস্থ, সেটাতে পড়ার সুযোগ কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে কোপ তো দূরের কথা কোন প্রতিবাদলিপিও পড়তে রাজি না। তাও ভাল, প্রতিবাদ জানায় নাই। নয়ত লিটনদা’র মত পহেলা বৈশাখে ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে মৌলবাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতেন। ভাসুরের নাম তো মুখে আনতে নেই। অন্তত বিকৃতির হাত থেকে তো বেঁচে গেছি। নাহল শুনতে হত ‘শিক্ষার বানিজ্যিকীকরনের মৌলবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত’।

পাঁচ.

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথা মনে আছে? Hyon Yong-chol? এই বেচারা তাঁর হাঁটুর সমান বয়সী দেশের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় তন্দ্রা গিয়েছিলেন। যেটা আমাদের পুত্রসমেত যুদ্ধ করা ২১ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা বিড়ি মহসিন, ছাত্র ইউনিয়ন প্রোডাক্ট আবুল মাল, পরিত্যক্ত অগ্নিকন্যা মতিয়া আন্টিরা হররোজ করেন। উনাদের ভাগ্য ভাল দেশটা এখনো কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পুরোপুরি পরিনত হয়নি। তানাহলে ওনাদেরকেও হিয়ং ইয়ং-চলের পরিনতি মেনে নিতে হত।

কি হয়েছিল হিয়ং ইয়ং-চলের? গত ৩০শে এপ্রিল প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে তন্দ্রা যাওয়ার অপরাধে জনসম্মুখে বিমান বিধ্বংসী গোলার মাধ্যমে তাঁকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন মহামান্য কমিউনিস্ট রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া। সাম্য-সমান অধিকারের কথা বলে যারা ঘুমের অধিকার কেড়ে নেয় তারা শিক্ষার অধিকারের কথা বলে শিক্ষার সুযোগ কেড়ে নেবে এ আর অসম্ভব কি? তবুও আফসোস লাগে। সমাজের কিছু ছেলে, যারা বই পড়ে, ভাল স্কুল-কলেজে পড়াশোনা, বাবা-মাও শিক্ষিত তারা রাশান ভদকা খেয়ে আর কোরিয়ান বিমান বিধ্বংসী গোলার সামনে পড়তে বড়ই উতসুক। এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।

আর বাঙালির কথা? বাংলাদেশীর কথা? ওদের কথা আর কি বলব। ওরা তো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা। একবার এর কাছে যায় তো আরেকবার ওর কাছে। কখনো বিএনপির মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা কমিউনিস্টদের কাছে, কখনো আওয়ামী লীগের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা কমিউনিস্টদের কাছে। দিনশেষে সরন কিন্তু শূন্যই। যার কাছেই যাও না কেন, যাচ্ছ কিন্তু কমিউনিস্টদের কাছেই। এরপরও আশায় বুক বাঁধি। একদিন এদের হুঁশ হবে। রাখাল বালকের মরাকান্নার মোহভঙ্গ হবে ওদের। তদ্দিন পর্যন্ত নাহয় শিক্ষা কিনি, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডের মত দামী জিনিস কি আর ফ্রী পাওয়া যায়? তাও আবার জাতির মেরুদণ্ড? মেরুদণ্ড কিনবেন কিন্তু টেন পার্সেন্ট ভ্যাট দিবেন না তা কি হয়?

সামনে ঘোর অমানিশা। অন্ধকার আসছে। হাজার ৬০ বছরের পুরনো সেই অন্ধকার… কেউ কি নাই ফররুখের মত করে বলার রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? কিংবা নূরালদীনের মত করে? জাগো বাহে কুনঠে সবাই?

*১০% ভ্যাট প্রযোজ্য

*১০% ভ্যাট প্রযোজ্য

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।
আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

Latest posts by আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম (see all)

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top