ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন ২০১৯ , ১০ই আষাঢ় ১৪২৬, রাত ৮:১৬

হোমোসেক্সুয়ালিটি আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা

বিস্তারিত কিছু জানি না, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সমকামীতাকে বৈধ ঘোষনা করেছে এবং সমকামী বিয়েকেও জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছে। আমার জ্ঞানের পরিধি এতটুকুই। এই সীমিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই ফেসবুকের নিউজফীডে চলছে ক্রুসেড। পশ্চিমের পদলেহী গরু খাওয়া মোসলমানেরা হোমোসেক্সুয়ালিটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়, যার ইচ্ছা করবে যার ইচ্ছা করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রক্ষকের ভূমিকায় নেমে গেছেন। ওদিকে মর্দে মুজাহিদ সম্প্রদায় হোমোসেক্সুয়ালিটি হারাম এই মর্মে তারা ফেসবুক জিহাদ শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু তারা বলতে পারছেন না হোমোসেক্সুয়ালিটি কেন হারাম।

আমি পশ্চিমের পা চাটি না। আমার ভাল লাগা-না লাগার ভিত্তি প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য না। নৈতিকতার মানদন্ডে মাপি। শার্ট-প্যান্ট পশ্চিমা সংস্কৃতি, শাড়ি প্রাচ্যের সংস্কৃতি। অথচ শার্ট-প্যান্ট আমার কাছে অত্যন্ত সুসভ্য একটি বিষয়। কিন্তু শাড়ি একটি নোংরা ও অশ্লীল পোশাক। কামাসূত্র যে দেশের, শাড়িও সে দেশের। কামাসূত্র যে ধর্মাবলম্বীদের, শাড়িও সে ধর্মাবলম্বীদের। প্রাচীন ইতিহাস এবং সাহিত্যগুলো পড়লে বোঝা যায় শাড়ির উতপত্তি কিভাবে এবং অন্তর্বাসবিহীন শাড়িগুলো হাল আমলের লিঙ্গারি বা বিকিনির চেয়ে কত বেশী কামোত্তেজক। আসলে যেটা বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য কখনো ভাল বা মন্দের মাপকাঠি হতে পারে না। আমি পশ্চিমের পা চাটি না এর অর্থ এটা নয় যে আমি প্রাচ্যের কেনা গোলাম।

যেহুতু রমযান মাস চলছে সেহুতু বাঙালির বকধার্মিক সাজার প্রবণতা বেড়েই চলছে। যে জীবনেও নামাজ পড়ে নাই সে-ও পয়লা রমজানে সিগারেট দিয়ে ইফতারি সেড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করছে যেন বাকি ২৯টা রোজাও এভাবে রাখতে পারে। যে কারনেই হোক, বাংলা ভাষায় যেহুতু কথা বলি সেহুতু ভাষাসূত্রে আমিও বাঙাল। বাঙালের এই দিকটি আমার ভেতরেও কম-বেশি আছে। বছর জুড়ে কোরান-হাদীস পড়ি আর না পড়ি কোরান নাজেলের মাসে কোরান একটু হাতে নিয়ে ধরতে ইচ্ছা হল, যে গ্রন্থের আহ্বানে জন্য হাজারে হাজারে মানুষ নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে সে গ্রন্থে আসলে কি লেখা আছে তা জানার জন্য খানিকটা ঔতসুকও বটে। কোরান ওল্টাতেই সূরা আ’রাফ বের হল। ওটাই পড়া শুরু করলাম। সিনেমার একেবারে ধপাস করে মূল টপিকে না, কয়েক পাতা ওল্টানোর পর এক পর্যায়ে ৮০ নম্বর আয়াতে উপনীত হলাম। ৮০ থেকে শুরু করে ৮৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত সেখানে কওমে লূতের ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মমতে লূত একজন নবী ছিলেন যাঁকে এমন এক জাতির কাছে প্রেরন করা হয়েছিল যারা ‘ব্যক্তিস্বাধীনতা’ অধিকারবলে সমকামী শিল্পে প্রভুত উন্নতি লাভ করেছিল। যদ্দুর জানি খ্রিস্টান বা ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থেও এ জাতির কথা এবং এ নবীর কথা বর্ণিত আছে। মোদ্দা কথা, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ লূতকে নবী হিসেবে এবং লূতের জাতিকে সমকামী শিল্পের প্রাচীনতম চর্চাকারী হিসেবে স্বীকার করে।

ঘটনা দিন পাঁচেক আগের যদিও। তথাপি কখনো চিন্তাও করি নাই সেই দিনের মিনিট বিশেক পড়া ঐ আয়াতগুলো নিয়ে আজকে আবার লিখতে বসতে হবে। সে যাকগে, হাল জামানায় ধর্ম নিয়ে লেখা আর হালে পানি পায় না। আমাদের সমাজ বড্ড শিক্ষিত। তাই তারা তথ্যমন্ত্রী ইনু সাহেবের মত সহীহ এসলামী তরিকায় হুজুরে কিবলা দেওয়ানবাগী পীর সাহেবের ওরশে যান, পীর-খানকাহ আর মাজারে দান খয়রাত করেন। এমনকি মেঘের মাঝে আল্লাহ আর গরুর পশ্চাদ্দ্বারে আল্লাহর নামাঙ্কিত দেখিয়াও তারা সোভানাল্লাহ বলে লাফায় উঠেন। তারা বেহেশ্তের হুরের বর্ননা শুনে স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হতে ভালবাসেন। কবরের আজাবের সাপ কি দশ ফুট মোটা না বারো ফুট তা নিয়ে বিতর্ক চলে দস্তুর মত। কিন্তু ইসলামী আইন নিয়ে, বাস্তব জীবনে ইসলাম কি আদৌ অচল না সচল এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই আপনি মৌলবাদী- সব জায়গায় ধর্ম টেনে আনেন ক্যান? রাজনীতির সাথে ধর্ম মেশাবেন না। উনারা রমযান মাশে ঈদ ফ্যাশন শো’র নামে মুসলমানদের ধর্মীয় উতসবের বিজাতীয়করন করবেন কিন্তু প্রতিবাদ করতে গেলেই সেই একই ডায়ালগ- ‘আপনার ভাল না লাগলে আপনি চলে যান। আর সবখানে ধর্ম টেনে আনেন কেন? ঈদের সাথে ধর্ম মেশাবেন না। ধর্ম যার যার, ঈদের নামে উলঙ্গতা সবার।’

আমিও এরকমই আধুনিক একজন মানুষ। পুরোপুরি হয়ত আধুনিক হতে পারি নাই, তাই গেঁয়ো খ্যাতের মত করে ইসলামের মত মধ্যযুগীয় ধর্মকে এই আন্তর্জালিক জগতে টেনে এনেছি। তবে আধুনিক না হলেও আধুনিকতার দাস বলতে পারেন। এই দেখেন না, কিরকম ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে ইসলামের গুনকীর্তন আর আধুনিকদের নীচা দেখানোর চেষ্টা করছি। ইনফেরিওটি কমপ্লেক্সরে ভাই, আইডেন্টিটি ক্রাইসিস। ইহাকে বলে আত্মপরিচয় সঙ্কটে ভোগা মোসলমান। আমরা এখন আর সগর্বে কইতে পারি না আমরা মুসলিম। প্রথমে ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টা করি। ‘দ্যাখেন ভাই, আমি কিন্তু মৌলবাদী না/ আমিও মুক্তচিন্তার সমর্থক তবে/ বিজ্ঞানমনস্কতা আমিও সাপোর্ট করি কিন্তু’- এভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে নিজের কথাগুলো শুরু করি। শুয়োররা যখন সরাসরি আমাদের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে তখনও আমরা কোথায় কোন মোসলমানের দুই বছরের বাচ্চা হিন্দু মেয়ের গায়ে চিমটি কেটেছে সেটা কনডেম করতেই ব্যস্ত। আহারে! নিজের গায়ে থুথু দিতে পারি না, তবে উমররা নিশ্চয়ই দিচ্ছেন। উনারা আমাদের আধা জাঁহান এনে দিয়েছিলেন আর আমরা নিজেদের দিয়েছি লজ্জাস্থান। আমেরিকা ওয়ার অন টেররের জন্য নিজেরাই লাদেন বানিয়ে লাদেনের বিরুদ্ধে আমরা আমরাই তো জেহাদ করছে? অমনি আমরা লজ্জা দেখতে পাই- আই কনডেম, আই কনডেম, আই এম স্যরি, জে সুইস শার্লি।

যাহোক, এরকম আত্মপরিচয় সঙ্কটে ভোগা জাতিকে পিউর ইসলাম দিয়ে কোন কিছু ব্যাখ্যা করতে যাওয়াটাও বোকামি। উহারা ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক মধু খান। কিন্তু যদি কোরান বলে মধু মহৌষধ তাহলে তাহারা সেটা হেসে উড়িয়ে দেন। যখন হিন্দু ধর্মবেত্তারা তাদেরকে যোগ ব্যায়ামের উপকার সম্পর্কে বর্ননা করে তারা তন্ময় হয়ে যান। কিন্তু নামাজেও যে আধ্যাত্মিক-শারীরিক ব্যায়াম হয় এ ধারনা তাদের কাছে এক্কেবারে সাম্প্রদায়িক ও সেকেলে মনে হয়। ইসলাম নিয়ে তারা যে হীনমন্যতায় ভোগেন, কোন সেক্যুলারও ইসলামকে এতটা ক্ষতিকর মনে করেন না। পোত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত নামের আগে মুহাম্মদ নিয়ে তাদের যে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তা দেখলে দ্বিতীয় ক্রুসেডের শুরুয়াদকারী জর্জ বুশও অক্কা পেতেন। কারন মোসলমান তো আপনা আপনিই মরে গেছে, ওয়ার অন টেররের নামে নতুন করে তাদের আর মারার দরকার কি? অযথাই এত বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের অপচয়। আমিও এরকমই আত্মপরিচয় সঙ্কটে ভোগা গরু খাওয়া মোসলমান। আমিও তাই ধর্ম দিয়ে হোমোসেক্সুয়ালিটিকে ব্যাখ্যা করছি না

হোমোসেক্সুয়ালিটির সাথে আমার সবচেয়ে বড় বিরোধ একান্ত ব্যক্তিগত কারনেই। এক কালে ছিল, আমার বাপ-দাদাদের মুখে গপ্পো শুনেছি। উনারা মাতাল হয়ে, বিড়ি খাইতে খাইতে দু’ তিন বন্ধু তিস্তার পাড় ধরে হেঁটে বেড়িয়েছেন। রাতের বেলা জিগরী দোস্তকে নিয়ে ভূত নামানোর খেলা দেখতে পোড়াবাড়িতে গিয়েছেন। কিন্তু আজকের জামানায়? বন্ধুদের নিয়ে নিজের বেডরুমে দরজা আটকিয়ে কম্পুটার গেমস খেললেও বারো বছর বয়সী ছেলের দিকে সন্দেহের দিকে তাকান মা। পাছে না ছেলে আবার সমকামী হয়ে যায়। এই যে চিন্তার জগতে নোংরা পরিবর্তন, তা কিন্তু আমাদের ‘ব্যক্তিস্বাধীনতা’র ধ্বজাধারী হোমোসেক্সুয়ালদেরই অবদান। এজন্য আমি তাদের কোন দিন ক্ষমা করব না। নির্মল শৈশব-কৈশোরের আনন্দকে তারা যেভাবে মিটিয়ে দিচ্ছেন, আমাদের জেনারেশন থেকে শুরু করে, তার জন্য এঁদের নামে আমি নালিশ জানিয়ে রাখছি। উনারা তো আবার মুক্তমনা থুক্কু নাস্তেক সম্প্রদায়ের মানুষ। উনারা বিশ্বাস নাই করতে পারেন, আমি বিশ্বাস করি। মরে গেলেই সব শেষ না। উনারা আমার শৈশবের আনন্দ কেড়ে নিয়ে মরে গিয়ে বেঁচে যাবেন তা হবে না। বিচার এক দিন হবেই। কাঠগরায় ওদের দাঁড়াতে হবেই। তদ্দিন না হয় ওরা নিজের মনকে মিথ্যে প্রবোধ দিক- ‘সুনামি বলে কিছু নাই। সুনামি কোন দিন হয় না। বিপর্যয় কোন দিন আসবে না। সব মিডিয়ার সৃষ্টি।’

ছেলে-মেয়ে একসাথে মিশতে পারবে না, ‘জাস্ট ফ্রেন্ডস’ ধারনা প্রকৃতি বিরোধী। প্রকৃতি এটা নির্ধারন করে দিয়েছে। ছেলে আর মেয়ের শারীরিক-মানসিক গঠনগত পার্থক্যই বলে দেয় আমরা এক না। আমরা ছেলে, ওরা মেয়ে। তবে উভয়ই মানুষ। কিন্তু শুধুমাত্র মানুষ পরিচয়ে ছেলে আর মেয়ের সরলীকরন করাটা বাঘ আর হরিণ দুটোই যেহুতু প্রাণি সেহুতু বাঘ আর হরিণের বন্ধুত্বও সম্ভব বিশ্বাস করারই শামিল। যদিও ছেলে-মেয়ের সম্পর্কটা বাঘ আর হরিণের না, বাঘ আর বাঘিনীর মত, তথাপি শুধু উপমা হিসেবে এটা বললাম। এটা নিয়ে নতুন ত্যানা না প্যাঁচালেও চলবে। যেটা বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হল প্রাকৃতিক এই বিভক্তির কারনেই ছেলে-মেয়ে ফ্রী মিক্সিং গ্রহনযোগ্য না। কিন্তু এখন যদি কৃত্রিমভাবে ছেলে-ছেলে বা মেয়ে-মেয়ের মাঝেও এই বিভক্তি তৈরী করা হয় তাহলে পৃথিবীতে শুধু যৌনতাই থাকবে, ভালবাসা নয়। আরো স্পেসিফিক করে বললে বিকৃত যৌনাচার থাকবে, নির্মল ভালবাসা নয়। আজ পর্যন্ত কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে কোন মেয়েকে সে জাস্ট ফ্রেন্ডস হিসেবে দেখেছে, কোনদিন তার রুপ তার কাম জাগায় নাই কিংবা তার বুকের দিকে তার যৌন দৃষ্টি পড়ে নাই। এটা অস্বাভাবিক না, বরং এটাই স্বাভাবিক। যদি এটা অস্বাভাবিক হত তাহলে অধুনা প্রজন্ম ‘ফ্রেন্ডজোন’ বা ‘ভাইজোন’ এর বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হত না। আসলে জাস্ট ফ্রেন্ডস টার্মটা অবৈধ সম্পর্ককে জাস্টিফাই করতে টেনে আনা হয়েছে। ঠিক যেমন ধর্মব্যবসায়ীরা জোব্বা আর টুপি দিয়ে তাদের ভন্ডতা লুকাতে চায়, কিংবা জমি দখলকারী সংখ্যালঘু উতপীড়করা মানচিত্র খচিত টিশার্ট আর লাল-সবুজ হেডব্যান্ডের আড়ালে নিজের ধর্ষক পরিচয় আড়াল করে ফেলে।

পৃথিবীর প্রতিটা সম্পর্ককে যদি যৌনতার চোখে দেখতে হয় তাহলে ভালবাসার স্থান কই? ফ্রেন্ডশিপ তাহলে কই যাবে? ব্রাদারহুড তাহলে কই যাবে? ছেলে-মেয়ে ‘জাস্ট ফ্রেন্ডস’ যেমন অসম্ভব তেমন ছেলে-ছেলে ব্রাদারহুড/ফ্রেন্ডশীপকেও কি আমরা যৌনতার চশমা দিয়ে অসম্ভব বানাতে চলছি? না, আমরা বানাচ্ছি না, আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতার ধ্বজাধারী হোমোসেক্সুয়ালরা বানাচ্ছেন। সো মাই ডিয়ার হোমোসেক্সুয়াল ফ্রেন্ডস, বেডরুমের ভেতর তোমরা নিজেদের পাছা মারামারি করলেও তাতে আমার প্রবল আপত্তি আছে। এটা তোমার পার্সোনাল ব্যাপার থাকছে না। এটা আমার সাথে আমার ফ্রেন্ডের ফ্রেন্ডশীপেও প্রভাব ফেলছে। এটা সমাজের, রাষ্ট্রের, বিশ্ব মানবতার ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে।

হোমোসেক্সুয়ালদের প্রধান যুক্তি, আমি আমার এনাল ক্যানালে আমার পার্টনারের সেক্স অর্গ্যান ঢোকাতে চাইলে তোমার আপত্তি কোথায়? এই যুক্তিটা এতই শক্তিশালী যে তার জবাব আমার জানা নেই। আসলেই এর বিপরীতে কোন জবাব হয় না। কারন যে সুইসাইড করতে চায় জীবনটা তার নিজের। সে যদি সুইসাইড করতে চায় তাহলে আমি কে তার বাঁধা দেয়ার? জীবন তার, জীবন দিবে সে। হু দ্য ফা* এম আই টু স্টপ হিম? আহ! কি যুক্তি মাইরি!

হোমোসেক্সুয়ালরা নিজের বেডরুমের ভেতর দরজা আটকিয়ে নিজেদের ব্যক্তিস্বাধীনতা উপভোগকালে সবচেয়ে বড় যে অপরাধ করে তা হচ্ছে তারা দুইটি মেয়েকেও সেইম সেক্স ইন্টারকোর্সে অথবা বিকৃত যৌনাচারে যেতে বাধ্য করে। ছেলে-ছেলের পশ্চাদ্দ্বারের মাঝে নারী যোনী কোত্থুকে আসল এটা প্রথমে বিস্ময় জাগানিয়া হলেও আশা করি আর দুই বাক্য পড়ার পর সেটা আর আপনাদের থাকবে না। একজন হোমোসেক্সুয়াল অন্ততপক্ষে একজন পুরুষকে নারীসুলভ আচরনে লিপ্ত করে। প্রথমত, সে প্রকৃতি রক্ষিত নিজ স্ত্রী সঙ্গীকে বঞ্ছিত করছে। সেই সাথে অপর পুরুষের প্রকৃতি রক্ষিত স্ত্রী সঙ্গীকেও বঞ্ছিত করে। একজন হোমোসেক্সুয়ালের কারনে এট লিস্ট দুইজন অপজিট জেন্ডারের মানুষ যৌন ভ্রষ্টতার শিকার হচ্ছে। সো, তোমার বেডরুমে তুমি কি করবা সেইটা তোমার আর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় না, এইটা আমার বোনের যৌন নিরাপত্তার বিষয়ও হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ডিয়ার হোমোসেক্সুয়ালস।

হোমোসেক্সুয়ালিটি নাকি প্রাকৃতিক! নো ওয়ান্ডার যেখানে বানর থেকে মানুষ আসাকে প্রাকৃতিক বলে দাবী করা হয় সেখানে হোমোসেক্সুয়ালিটিকেও প্রাকৃতিক দাবী করা হবে। আমি তো আশ্চর্য হই না এটা দেখেও মা-ছেলে, পিতা-কন্যা বা ভাই-বোন যৌনাচারকেও এরা প্রাকৃতিক বলে দাবী করে যখন। এরা আসলে আমাদের সেই গ্রীক আমলে ফিরিয়ে নিতে চায় যখন যৌনশৃঙ্খল ভেঙে পড়েছিল এবং মনুষ্যত্ব ডুকড়ে কাঁদছিল। সেই গ্রীক আমল, ডার্ক এইজ অব হিউম্যান হিস্টোরি। অবশ্য প্রাকৃতিকতার মত হিস্টোরিকেও তারা নিজেদের মত করে টিউন করে নিয়েছে। তাদের শেখানো হিস্টোরি মতে গ্রীক ‘সভ্যতা’ আর ইসলামী ‘মধ্যযুগীয়তা’। সখী, সভ্যতার সংজ্ঞা জানতে মন চায়!

হোমোসেক্সুয়ালিটি যদি প্রাকৃতিক হয় তাহলে বলতে হয় আমার-আপনার জন্ম অপ্রাকৃতিক দুর্ঘটনামাত্র। প্রাচীনকালে নিশ্চয়ই বর্তমানের ইকুয়েপমেন্ট ছিল না। টেস্ট টিউব কাবজাবের মাধ্যমে স্পার্ম-স্পার্ম দিয়ে সন্তান জন্মও নেয় নাই। এখনো নেয় না সম্ভবত। অবশ্য হোমোসেক্সুয়াল মিডিয়াগুলো এটা প্রচার করার চেষ্টা করছে যে হোমোসেক্সুয়াল হয়েও বংশগতি রক্ষা করা সম্ভব। এখন সম্ভব হোক বা না হোক, প্রাচীন কালে সম্ভব ছিল না এটা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করছি। তাহলে বলতে হয় আবহমান কাল ধরে বংশগতি যেভাবে প্রবাহিত হচ্ছে সেটা একেবারে প্রকৃতিবিরোধী বিপর্যয়মাত্র। আমার জন্ম, আমার বাপের জন্ম, আমার মায়ের জন্ম- সবই প্রকৃতি বিরোধী বিপর্যয়। কারন অনলি হোমসেক্সুয়ালিটি ইজ ন্যাচারাল

একজন হোমসেক্সুয়ালের বেডরুমের ভেতরের কার্য্যক্রম কখনো তার ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে পারে না। ঠিক যেমন এবরশন বা সাইলেন্ট কিলিং তার ব্যক্তি স্বাধীনতা না। আমি আমার প্রেমিকাকে নিজের প্রেমের প্রমাণ দিতে তার বেডরুমে গিয়ে নিজের কলিজা বের করে দেখালেই সেটা আমার বা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে পারে না। এটা সুস্পষ্ট হত্যাকান্ড। আর হোমোসেক্সুয়ালরা তো ক্রাইম এগেইন্সট হিউম্যানিটি করছে। তারা এক বা দুইজন না, পুরো মানবতাকে হত্যা করছে। যদি হোমোসেক্সুয়ালিটি প্রাকৃতিকই হয়, হোমোসেক্সুয়ালিটির দিকে সবাই ঝুঁকে যায় তাহলে ভবিষ্যত বংশধর কারা হবে? হায়! এরপরও প্রমানিত সত্যকে প্রমান করার জন্য আমাদের কলম-কি বোর্ড ধরতে হয় যে পৃথিবীকে মানুষশূন্য করার জন্যই এই আগ্রাসন।

ধর্মীয় দিক থেকে এইসব হোমসেক্সুয়ালিটি হারাম না হালাল জানি না। যদি কোন ধর্ম এটাকে হালাল ফতোয়া দেয় ঐ ধর্ম মানবতাবিরোধী ধর্ম। আমার সহজ কথা, নির্মল শৈশব চাই, কিউট কিউট বাচ্চাদের ছবি দেখতে চাই। শুয়োরদের মত সেইম সেক্স সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স করে একটা নিষ্পাপ শিশুর খিক খিক হাসির ছবি দেখা থেকে বঞ্ছিত হতে চাই না। হোমোসেক্সুয়ালরা একটা যৌনযন্ত্র, বিকৃত যৌনযন্ত্র। সদ্বজাত শিশুর হাসির বিনিময়ে একটা কেন হাজারটা যৌনযন্ত্রকে গুলি করে মারতেও আমার কষ্ট হবে না। দে আর ক্রিমিনালস এন্ড দে শ্যুড বি ট্রিটেড লাইক ক্রিমিনালস। আইন আজ আছে, কাল বদলাবে। দুই দিন আগে হোমসেক্সুয়ালিটি নিষিদ্ধ ছিল, দুই দিন পর হয়ত আবার হবে। এর সাথে নৈতিকতার কোন সম্পর্ক নাই, সত্যের কোন সম্পর্ক নাই। লিগালাইজ উইড অর নট, ড্রাগ ইজ অলওয়েজ হার্মফুল। একইভাবে হোমোসেক্সুয়ালিটির স্বীকৃতি দিন আর না দিন, এটা যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সেই সত্য কোন দিন মুছতে পারবেন না। ইশরাক, সাইনিং অফ।

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।
আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

Latest posts by আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম (see all)

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top