ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন ২০১৯ , ১০ই আষাঢ় ১৪২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭

লাভ কার?

এক.

চেনাপরিচিতদের একেকজন আজ একেক জায়গায়। নির্দিষ্ট একটা রাস্তা একসাথে হেঁটে এসে জীবনের বাঁকগুলো একেক দিকে চলে গেছে। কেউ ডানে, কেউ বাঁয়ে, কেউ সোজা। ছোটবেলায় যে বন্ধুদের সাথে বসে সিগারেটখোরদের গালাগাল করেছি সময়ের আবর্তে তাদের অনেকের ঠোঁট দিয়ে ধোঁয়া ওড়ে। আমার কথাই ধরা যাক। যখন ক্লাস থ্রী বা ফোরে ছিলাম, কোন দিনও কি চিন্তা করেছিলাম যে এমনও বছর আসবে যে একদিনও ক্রিকেট ব্যাট হাত দিয়ে ধরা হবে না? অথচ সেই দিন ঠিকই এসেছে, আমরা দিব্বি পারি দিচ্ছি সেই দিন।

ডানহাতি কিংবা বাহাতি, সবার মধ্যে একটা মিল আছে। পড়াশোনা করেছি ঢাকার বিখ্যাত এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ঢাকার মধ্যে বললে ভুল হবে, দেশের মধ্যে বললেও হয়তবা কম বলা হবে। পাকিস্তান আমলে পশ্চিম পাকিস্তান থেকেও এখানে পড়তে আসত ছেলেরা। আমার ক্লাসমেটদের ভিতর আওয়ামী লীগদলীয় এমপির ছেলে আছে, বিএনপির বড় নেতার ছেলে আছে। বাবার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা কখনো আমাদের বন্ধুত্বে চিড় ধরাতে পারেনি। কিন্তু এই জিনিসগুলোর ব্যত্যয় ঘটে জামায়াত-শিবিরের প্রসঙ্গে। ছাত্রদের নিয়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবির কাজ করে। আমার বন্ধুদের ভেতর যারা শিবিরে গেছে তারাই সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেকক্ষেত্রে এমনকি পরিবার থেকেও।

বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান আছে। সাংস্কৃতিক, দাতব্য, ক্রীড়া সংস্থাও আছে। কিন্তু কোথাও এই শিবিরমনা ছেলেদের ঠাঁই হয় না। সেদিন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্য্যক্রমে গেলাম। ওখানে সরাসরি সবার রাজনৈতিক পরিচয় বের করে শিবিরমনা ছেলেদের বাদ দিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি যখন স্কুলে ছিলাম, ওখানকার ডিবেট ক্লাব থেকে আমাকে বহিস্কার করা হয় একই অভিযোগে। দেশের সবগুলো ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। সামাজিকভাবে বয়কটের এক মহোতসব চলছে এখানে। সবার উদ্দেশ্য একটাই- বাংলার মাটিতে রাজাকারদের ঠাঁই নাই। জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়। যদিও এই ধাঁচের শ্লোগান ও উদ্দেশ্যগুলো আল কায়েদা কিংবা ISIS-র ‘আল্লাহর জমিনে নাস্তিকদের ঠাঁই নাই’ শ্লোগানের সাথে মিলে যায়, আমি ওদিকে যাব না। আমি শুধু পর্যালোচনা করব আসলেই যে উদ্দেশ্যে সামাজিকভাবে এই বর্জননীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে তা সফল হচ্ছে কিনা।

দুই.

দুইদিন আগেও এই লেখাটা লিখব তা জানতাম না। আসলে বিষয়টা কখনো সেভাবে মাথাতেই আসে নাই। কিছু সূত্র পেয়েছিলাম, কিন্তু সুতো মিলছিল না। কোথায় যেন একটা ফাঁক রয়ে গেছে মনে হচ্ছিল। বিডিআরের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব) ফজলুর রহমান স্যারের একটা লেখা পড়ে জটটা দূর হয়ে গেল। সবকিছু খাপে খাপে মিলে যেতে লাগল। ১৯৭৩ সালে নাকশাল দমন অভিযানে স্যারের অভিজ্ঞতার বর্ননা দিয়ে স্মৃতিচারণামূলক একটি লেখা, গত ১৮ তারিখ স্যার তাঁর নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।

নাকশালদের সদস্য সংগ্রহ সম্বন্ধে একটা জানা কথাই স্যার সেখানে উল্লেখ করেন যেটা কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমার মাথায় আসছিল না কিংবা আজকের লেখার বিষয়বস্তুর সাথে তার সম্পর্ক মেলাতে পারছিলাম না। সেসময় নাকশালরা স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের বাছাই করে তাদের দ্বারা মানুষ খুন বা ফৌজদারি অপরাধ করাতো। স্বাভাবিক নিয়মে এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা-হুলিয়া জারি হত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবার সব পথ আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যেত। সমাজ কখনো তাকে ফিরিয়ে নেয় নাই, সেও সমাজে ফিরে আসতে পারে নাই। এর ফলাফল ছিল কারাগার, এনকাওন্টার কিংবা আত্মহত্যা। আমৃত্যু নাকশাল করা ছাড়া কোন উপায়ন্তর ছিল না।

জ্বি, এই জিনিসটিই ছিল আমার ইউরেকা। আমার যে বন্ধুগুলো, আমাদের সমাজের যে ছেলেগুলো শিবিরে ভিড়েছে তারা আর কোনদিন সমাজের মূলস্রোতে মিশতে পারবে না। আমরা তাদেরকে মিশতে দেব না। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলব- আমরা রাজাকারদের সাথে জিরো টলারেন্সে আছি, আমরা তাদেরকে দমিয়ে ফেলেছি। এখানেই ঘটবে সমস্যাটা। ইনফ্যাক্ট ঘটছেও। আপনি নিজেই খেয়াল করে দেখুন, আওয়ামী লীগ থেকে কতগুলো ছেলে বিএনপিতে যাচ্ছে। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগেও যাচ্ছে। টিন এইজ বয়সে ম্যাক্সিম গোর্কি কিংবা রাশান সাহিত্যে মুগ্ধ হয়ে ‘নার্ড’ টাইপের ছেলেগুলোও কমিউনিস্টদের দলে ভিড়ছে। শেষ বয়সে হজ্ব করে তওবা করে মসজিদ-মাদ্রাসা তৈরী করে অবকাশ যাপন করছে। এমনকি সারা জীবন ধর্ম কর্ম করে, সতভাবে জীবিকা নির্বাহ করে পেনশনের টাকা নিতে গিয়ে সরকারী ঘুষচক্রে পড়ে অসহায় মধ্যবিত্তটিও লাল পতাকা তুলে ধরছে। কিন্তু শিবির বা জামায়াতের ক্ষেত্রে? কোনদিনও শুনেছেন কোন ছেলে শিবির থেকে অন্য কোন দলে গিয়ে ভিড়েছে? শিবিরে কনভার্ট হয় এরকম উদাহরন পাবেন, কিন্তু শিবির থেকে অন্য কোথাও কনভার্শনের ইতিহাস পাবেন না। পেলেও হাতে গোনা দু’একটা। কিন্তু কেন? শুধুই কি শিবিরের আদর্শ? জামায়াতের আদর্শ?

তিন.

শিবিরে যোগ দেয়া ছাত্রের সংখ্যা কম না। বিভিন্ন পরিসংখ্যানমতে প্রায় ৫ লক্ষ ছাত্র শিবির করে। আমার সাথে এসএসসি দিয়েছে সাড়ে চারশর মত ছাত্র। এর মধ্যে আমি সতের জনকে চিনি যারা শিবিরের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। এছাড়া মৌন সমর্থন কিংবা পরোক্ষ সম্পর্ক বাদ দিলাম। স্কুল পর্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ কম থাকে। যতই আরো উপরের দিকে যাওয়া যাবে, এই সংখ্যাটা তত বাড়তে থাকবে।

বিষয়টা আমরা পাড়ার খেলার সাথে তুলনা করতে পারি। ধরুন, একটা মহল্লায় ১৫টা ছেলে আছে। প্রতিদিন বিকালে তারা ক্রিকেট খেলে। যার ব্যাট-বল দিয়ে খেলা হয় সে একটা ছেলেকে পছন্দ করে না। তাই তাকে খেলায় নেওয়া হল না। ফলাফলে দেখা যাবে এই ছেলেটা খেলতে না পেরে চুপচাপ থাকবে, বাসায় গিয়ে কান্নাকাটি করবে, অন্য অসামাজিক কাজে জড়িয়ে যাবে কিংবা সমাজের মূলস্রোত থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দেখা গেল এই ছেলেটি শুধু একা না, এরকম আরো তিন-চারজনকে খেলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তখন দেখা যাবে যে এই তিন-চারজন আলাদা করে খেলা শুরু করবে। সমাজের মূল স্রোত ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যাবে।

জ্বি, আমাদের এখানেও ঠিক তাই হচ্ছে। এই যে ছেলেগুলোকে আমরা একঘরে করে রাখছি। এরা হয়ত শেকলে বন্দী আছে। কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে শেকলবন্দী আছে। এরা নিজেদের ভেতর একতা জগত তৈরী করে নিয়েছে। আমরা কেউ জানি না ওরা কি ভাবছে, ওরা কি চিন্তা করছে। ওরা চলছে ওদের মত। ওদের ভেতর কি চলছে সেটা শুধু ওরাই জানে। এবং এই দূরত্বটা ওরা নয়, আমরাই তৈরী করেছি। অপরাধীরা সবকিছু গোপন করে। কিন্তু আমরাই ওদেরকে অপরাধী বানাচ্ছি। একজন ড্রাগ এডিক্টেড ছেলেকে ড্রাগ ছাড়াতে হল তাকে সামাজিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। আর আমরা তাকে আরো একঘরে করে দিচ্ছি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, দেশে এত বড় বড় মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিদ থাকতেও বিষয়টা নিয়ে কেউ ভাবিত না। বা চিন্তিত হলেও এনিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। আসন্ন ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে তারা রীতিমত অস্বীকার করছেন!

আজ আমাদের সরকার কওমী মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ে ভাবিত। অর্থমন্ত্রী সেদিন এটাকে বিষফোঁড়া বলছেন। অনেকেই বলছেন। আমিও কিঞ্চিত একমত এর সাথে। কারন কি? কারন এই মাদ্রাসাগুলো সরকারের অনুদানে চলে না। এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন যারা, কিংবা শিক্ষা নেন যারা তাদের সামাজিক কোন স্বীকৃতি নেই। তারা স্বতন্ত্র। এই বিশাল লোকবল চাইলেই ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যায়। একটি স্কুল সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু কোন কওমী মাদ্রাসা সরকারের কোন নির্দেশই মানতে বাধ্য না! ভাবা যায়! সরকারের ভেতর এযেন আরেক ছায়া সরকার। এখানে শফী হুজুরের কথাই আইন। কারো কোন অধিকার নেই এখানে। এই অবস্থাও আমাদেরই তৈরী। ওরা বারবার ওদের শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি চেয়েছে, ওদেরকে সমাজের অংশ হিসেবে ভাবার আকুতি জানিয়েছে। আমরা ওদের কথা শুনিনি। আজ ওদের অনেকে জেএমবিতে চলে যাচ্ছে, হেফাযতের মত বিশাল সাইক্লোন তৈরী করেছে। ওরা শফী হুজুরের কথায় জীবন দিতে চলে এসেছে অথচ ওরা জানেও না ব্লগ কি! ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায়, আর সেই ব্লগারদের বিরুদ্ধে তারা জেহাদ ঘোষনা করে বসে আছে। এই ছেলেগুলোকে যদি আমাদের সমাজেরই অংশ ভাবতাম, আর দশজনের মত এদেরকেও একই চোখে দেখতাম, আমার-আপনার মত এরাও একই সুযোগ-সুবিধা পেত তাহলে এরা হয়তবা চিলের কান নেয়ার সংবাদ শুনে চিলের পেছনে দৌঁড়াত না। তাহলে প্রশ্ন কিন্তু সে জায়গাতেই- দায় কার?

চার.

জামায়াত-শিবিরের বিষয়টা আরেকটু ক্রিটিক্যাল। কওমী মাদ্রাসার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা এখানে। কওমী মাদ্রাসাগুলো সরকারী অনুদানে না চললেও ব্যক্তি অনুদানে চলে। প্রতিটি রাজনৈতিক নেতাই অনেকগুলো মাদ্রাসা চালান। কেউ বিএনপি করেন, কেউ আওয়ামী লীগ করেন। কোন না কোনভাবে তাই তাদের নাগাল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু জামায়াত একেবারে স্বতন্ত্র্য। এদের আলাদা অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে, বিরাট শিক্ষিত জনবল আছে। রয়েছে বহু প্রফেসর, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। সমাজের সবগুলো জায়গায় এরা আলাদা অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে। এরা কারো মুখাপেক্ষী না। জামায়াতের নিয়ন্ত্রন সবসময় জামায়াতের হাতেই থাকছে। এদেরকে যদি দীর্ঘদিন একঘরে করে রাখা হয় তার ফলাফল কি হবে আমরা কল্পনা করতে পারছি? পাড়ার ক্রিকেটের মত দলছুট ছেলেরা সব একজোট হবে। এরপর ওরা আলাদা করে খেলা শুরু করবে। একসময় মূল খেলার লোকের চেয়ে ওদের লোক বেশী হয়ে যাবে। তারপর? তারপর আপনি যা আশঙ্কা করছেন ঠিক তাই হবে।

শেষ করছি একটা বাস্তব ঘটনা বলে। আমার বাড়ি রংপুর। রংপুরের পাশেই গাইবান্ধা। ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় গাইবান্ধার ওপর দিয়েই রংপুরে যেতে হয়। গাইবান্ধার সবগুলো উপজেলার চেয়ারম্যান জামায়াত সমর্থিত, সবাই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ওখানে পুলিশি হয়রানির শিকার হয় নাই এরকম কোন পরিবার নাই। মাসখানেক আগে পত্রিকায় দেখেছিলাম গাইবান্ধার প্রায় ৬৬ হাজার মানুষের নামে মামলা আছে। আপনার কি মনে হয়? এই লোকগুলো আর কোনদিনও জামায়াত ছেড়ে বেরিয়ে আসবে? অন্তত মামলার খরচ চালানোর জন্য হলেও তাদের জামায়াতের দ্বারস্থ হতে হবে। এটা শুধু গাইবান্ধার চিত্র। দেশের অনেক জেলাতেই এরকম অবস্থা বিদ্যমান। এধরনের জেলাগুলোর সংখ্যা কিন্তু ধীরে ধীরে বাড়ছেই। আমার ভয়টা জামায়াতকে নিয়ে না, আমার ভয় তীব্র বঞ্ছুনা আর নির্যাতনের শিকার হওয়া এই লোকগুলোকে নিয়ে। হাইড্রোইলেক্ট্রিসিটির মত বাঁধ দিয়ে আমরা এদেরকে আটকে রেখেছি। একদিন এই বাঁধ ভেঙে যাবে। সেদিন জামায়াতও এদেরকে আটকে রাখতে পারবে না। মিসরের ফারাও আর জার্মানের হিটলার ইহুদীদের অত্যাচার করে প্রায় নির্বংশ করে ফেলেছিল। কিন্তু ওরা ফিরে এসেছে। এবং এতটা জঘন্য ও নৃশংসভাবে ফিরে এসেছে যে ফেরাও-হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের জাসদের দিকেই তাকান। বঙ্গবন্ধু ওদের অবস্থা ঠিক এরকমই করেছিলেন এখন জামায়াত-শিবিরের যে অবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল? আজ ওদের বিষদাঁত সমাজের সবখানে কামড়ে ধরেছে। ৪০ হাজার নেতাকর্মীর রক্তের বদলা নিচ্ছে ওরা, আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক কৃতিত্ব ধুলোয় লুটিয়ে দিচ্ছে ওদের দল। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মরতে হচ্ছে আমাদেরকে। জ্বি, আমার ভয়টা ঠিক এজায়গাতেই।

(সম্প্রতি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবী বেশভালভাবে ওঠানো হয়েছে। হয়তবা হবেও। স্বাধীনতার সক্রিয় বিরোধিতাকারী একটি দল কিভাবে এতদিন এদেশে রাজনীতি করল তা বিস্ময় জাগানিয়া হলেও বর্তমানে কলমের খোঁচায় তাদের নিষিদ্ধ করাটা কতটা ভাল ফল বয়ে আনবে তা বিবেচনায় না রেখে আবেগের বশে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কতটা যৌক্তিক হবে সেটা আমাদের ভাবতে হবে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিলেই কি এর বিরাট কর্মীবাহিনী জামায়াতের আদর্শ ছেড়ে দিবে? এদের সাথে আমরা কিরকম ব্যবহার করব? এদের পুনর্বাসনই বা হবে কিভাবে? বিরাট এই জনগোষ্ঠীকে অবদমিত রেখে সামগ্রিকভাবে আমাদের দেশের উন্নয়ন সম্ভব কিনা? এদেরকে বর্জন করার সামাজিক প্রভাবটাই কি? এগুলো করে আসলে লাভটা কার হচ্ছে? এসব চিন্তা থেকেই আজকে কলম ধরা। হয়ত এসবের কোন ভাল সমাধান পাঠকদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে।)

লেখকঃ আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।
আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

Latest posts by আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম (see all)

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম

শখের লেখক, ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট, কিশোর ও ক্রীড়া সাংবাদিক। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। আদি নিবাস রংপুর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top