ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪শে জানুয়ারি ২০১৯ , ১১ই মাঘ ১৪২৫, ভোর ৫:১৯

স্টার প্লাস বিড়ম্বনা!

ডিশ চ্যানেলগুলোর কল্যাণে আমরা এখন পুরোপুরি বাঙালি হবার চেষ্টায় লিপ্ত। পাঠক হয়তো বলবেন, ‘হ্যাঁ’ এতে দোষ কিসের? না, দোষ হতো না, যদি আমাদের চিরাচরিত ঐতিহ্য বজায় রেখে এর চর্চা হতো তবে সমস্যা ছিল না।আমাদের শেকড় তো কলকাতায় নয়, কিংবা আমরা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির ষোলআনা পূজারী হব তা হলে তো আর দেশ-ধর্মে ভিন্নতার দরকার ছিল না। আমাদের দেশে ভারতের ৪০-৫০টি চ্যানেল চলে, যেগুলো কিনা উলঙ্গপনা আর নগ্নতার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে দেখেন, আমাদের একটা চ্যানেলও তাদের দেশে প্রচারে অনুমতি পাই না। এ কেমন ইনসাফ!

যা হোক, পাঠক হয়তো নিশ্চয় স্টার প্লাস, স্টার জলসা, স্টার গোল্ড চ্যানেলগুলো চিনেন। হ্যাঁ চিনতে তো হবেই, ঘরের গৃহিণী-কন্যারা যার কথা শুনলেই কাৎ! যাদের বাড়িতে ডিশ আছে তারা জানেন যে, বাড়ির মেয়েদের কাছে স্টার প্লাস আর স্টার জলসা এতই প্রিয় যে, কোন কিছুই তাদেরকে এ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। এ চ্যানেলগুলোতে সারা দিন-রাত সিরিয়াল চলে, আর তাতে শুধুই পারিবারিক কলহ, ঈর্ষা, হিংসা প্রভৃতি জঘন্য কাজের প্রশিক্ষণ চলছে। আর সেই সাথে নগ্নতার সীমা অতিক্রম তো আছেই। নগ্নতা তো নগ্নতাই তার আবার সীমা কি? কিন্তু হিন্দি চ্যানেলগুলোর আবার রকমফের আছে! যাক সে কথা। মুসলমানদের উপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নতুন কিছুনা, কিন্তু এখন তা আরো আধুনিক ও বিচিত্র রূপ পেয়েছে। বাড়ির মেয়েরা পোশাক কিনতে গেলে দোকানীকে বলে, ‘‘ভাই ওই যে স্টার প্লাসের অমুকের শাড়িটা ….’’ দোকানী উত্তরে বলে ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আছে।’’ নীটওয়্যারের রফতানিতে দ্বিতীয় এই বাংলাদেশের পোশাক খাত আজ বিপন্ন। আগুন, সংঘর্ষ, এখন নিত্যদিনের ঘটনা গার্মেন্টস শিল্পে। স্টার প্লাস আর স্টার জলসার কল্যাণে আমাদের পরিবারগুলোতে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। ওদের শেখানো চাল আর কূটবুদ্ধি ফলানো হচ্ছে সংসারে। শরৎ আর বিভূতি ভূষণদের উপন্যাসে যে সমাজের অত্যাচার, কুসংস্কার আর জাত-কূল ভেদের জঘন্যতার বিরুদ্ধে ছি, ছি উঠেছে সেই আচারগুলো এখন আমাদের গৃহে লালিত-পালিত হচ্ছে। এ দুঃখ কোথায় রাখি। যে দেশে মন্ত্রীরা ভারতীয় নায়ক শাহরুখের উন্মত্ততা উপভোগ করে মাটিতে বসে সে দেশে আর আমাদের জায়গা কোথায়। কিন্তু তিতুমীর, বখতিয়াররা যে দেশে কালজয়ী ইতিহাস গড়েছেন, সে দেশের আশা এতো সহজে ফুরোয় না

আজ আপনার স্ত্রী বা ছোট বোনকে তিতুমীর সম্পর্কে বলতে বললে হয়তো গঁৎবাধা দু’লাইন আওড়িয়ে যাবে, কিন্তু স্টার প্লাসের গোপী, নন্দীনিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেই দেখেন- উত্তর কত বিস্তৃত হয়।

স্টার প্লাস আর স্টার জলসা এতই এগিয়েছে যে, আমাদের নারীরা ঐসব ভারতীয ললনাদের অনুগত দাসীতে পরিণত হয়েছে। সাজ-গোজ, দেহপ্রদর্শনী এমনকি কথাবার্তা সবই পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। কবে বলে দেখবেন এদেশে, এ পরিবারগুলোতে আর আমাদের বাংলা নেই, কলকাতার বাংলা জয়রাম বলে ঢুকে পড়েছে। এখন শহর শুধু নয়, গ্রামের পরিবারগুলোতেও এর জয়ধ্বনি।

যারা পছন্দ করেন না, তারা এখানে কঠোর প্রতিরোধে পড়ে বাধ্য হন। এমনকি মারামারি-ঝগড়াও হয় গোপীদের জন্য। একেই বলে ভাগ্য। রাস্তাঘাটে ইভটিজিং-এর প্রতিবাদে মিছিল-মানববন্ধন আর ঘরের মধ্যেই চলছে পুরোদমে প্রেরণা। বাংলাদেশী তনয়ারা ঐ সিরিয়ালের ছেলেদের বড় ফ্যান। কেউ হয়ত আছেন ওদের পেলে হয় সতীত্ব দিয়ে দেবেন বৈকি! শাহরুখ চুমু একে দিতে পারলে ভবিষ্যতে আরও কিছু যে হবে না তা না। থাক এ জঘন্যতা আর মনে আনতে চাই না। তাই আসুন বিজাতিকে ঘৃণা নয় বরং তাদের খারাপ দিক ঘৃণা করে বর্জন করি। কঠোর হস্তে বন্ধ করি ফ্যামিলিতে স্টার প্লাসসহ সকল হিন্দি চ্যানেল। নতুবা সেদিন হয়ত বেশি দূরে নাই যেদিন আমাদের মুসলিম গৃহে সকাল-সাঁঝে উলুধ্বনি আর দুর্গা-দুর্গা শোনা যাবে। তাই স্বকীয়তার ভিত্তিতে স্বজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করি, গোপী নয়, আমাদের নারীরা রোকেয়ার মত অবদান রাখবে সমাজে যেখানে প্রেরণা হয়ে থাকবে ফাতিমা (রা.), আয়েশা (রা.)-এর মত নারীরা। সেই সোনালী যুগে তারাও কত অবদান রেখেছেন।

সেই ইতিহাস পড়ে মহীয়সীদের চিনতে হবে আর ইভটিজিংসহ সকল যৌন নিপীড়নের প্রেরণা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে এগিয়ে আসতে হবে।

উমাইর চৌধুরী

উমাইর চৌধুরী

''আজকে উমর পন্থী পথীর দিকে দিকে প্রয়োজন
পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ী দেবে যারা প্র্ন্তার প্রাণ- পণ,
উষর রাতের অনাবাদী মাঠে ফলাবে ফসল যারা
দিক-দিগন্তে তাদের খুঁজিয়া ফিরিছে সর্বহারা।''

--ফররুখ আহমদ
উমাইর চৌধুরী
উমাইর চৌধুরী

উমাইর চৌধুরী

''আজকে উমর পন্থী পথীর দিকে দিকে প্রয়োজন পিঠে বোঝা নিয়ে পাড়ী দেবে যারা প্র্ন্তার প্রাণ- পণ, উষর রাতের অনাবাদী মাঠে ফলাবে ফসল যারা দিক-দিগন্তে তাদের খুঁজিয়া ফিরিছে সর্বহারা।'' --ফররুখ আহমদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top
Loading...