ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ , ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫, দুপুর ১২:১২

পিরোজপুর-২ মনোয়ন প্রত্যাশী সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী, মনোয়ন পেলে পাল্টে যাবে ভোটের হিসাব নিকাশ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচন হলে এবং ২০ দলীয় জোট থেকে মনোয়ন পেলে জোটের সিদ্ধান্তনুযায়ী পিরোজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী। পিরোজপুর-২ ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লক্ষ বিশ হাজার দুইশত এগার। এর মধ্যে পরুষ এক লক্ষ দশ হাজার সাত শত ষোল ও মহিলা ভোটার সংখ্যা এক লক্ষ নয় হাজার চার শত আটানব্বই।

১/১১ পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটময় মুহুর্তে দেশের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা থাকায় ২০০৮ সালের নির্বাচন করতে পারেনি তিনি। ওই নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী আসন বিন্যাসে ভান্ডারিয়া- কাউখালী নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে নেছারাবাদকে যুক্ত করা হয়েছিল। এ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রার্থী হতে না পারার সূযোগে মহাজোট মনোনিত প্রার্থী নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যক্ষ মো. শাহআলম- ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার নিকটতম চার দলীয় জোট প্রার্থী নূরুল ইসলাম মঞ্জু ৫৯ হাজার ৪২৮ ভোট পান। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনটি পুণঃ বিন্যাস করা হয়। এর আগে ইন্দুরকানী উপজেলা পিরোজপুর-১ আসনের সাথে যুক্ত ছিল। আসন পুণঃ বিন্যাসের পর প্রথম নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রথমে তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রি সভার রদবদলে তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি নিয়মিত এলাকা সফর করছেন। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং নেতা কর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছেন।

অপরদিকে সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজসহ সকল সামাজিক কাজে মানুষের পাশে পাশেই রয়েছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জোট সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী প্রায় ২৩ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দী আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আঃ খালেক গাজী ৫ হাজার ভোট পান। নির্বাচিত হয়ে মাসুদ সাঈদী ইন্দুরকানী উপজেলাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। তিনি সকলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।

আগামী নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে সাঈদীর ছেলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীকে এলাকার জনগন প্রার্থী হিসেবে পেতে চাইছে। আর এরকম কিছু হলে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যাবে এ আসনের। বিষয়টি সুখকর হবে না বর্তমান এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কিংবা অন্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রার্থীদের জন্য বলে গুনজন রয়েছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ যেমন এখানে সবসময় ছাড় দেয় তাদের মহাজোটের অংশীদার দল জেপিকে (মঞ্জু) তেমনি বিএনপিও আসনটি পাওয়ার জন্য জামায়াতের সাথে সমঝোতা করবে এমনটাই ভোটাররা মনে করছেন। কেননা শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ¦ী না থাকায় এখানে যেভাবে একক অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু । সেখানে মাসুদ সাঈদীর মতো নতুন ক্রেজ ছাড়া তাকে ঠেকানো যে মুশকিল সেটা বিএনপিও জানে। তাই হয়তো নিজ দলের কাউকে না দিয়ে আসনটি পাওয়ার জন্য মাসুদ সাঈদীকে দিয়েই বিএনপি -জামায়াত জমাতে চাইবে ভোট যুদ্ধের মাঠ। এ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বিএনপির ভান্ডারিয়ার বাসিন্দা লোবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও বিএনপির থেকে সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছেলে পিরোজপুর জেলা বিএনপিরসহ-সভাপতি ও ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহম্মদ সোহেল মন্জুর সুমন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারাও জোট থেকে মনোনয়ন চান। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুর-১ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই অঞ্চলে রয়েছে আল্লামা সাঈদীর বিপুল জনপ্রিয়তা। যদিও বর্তমানে তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলায় কারাদন্ড প্রাপ্ত। পিরোজপুর-২ আসনের ভোটের হিসাবে সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী তার পিতার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে থাকবেন বলে সচেতন মহল মনে করেন। এ বিষয়ে এ আসনের সাঈদী ভক্ত,সচেতন মহল ও বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীর সাথে একান্ত আলাপে জানা যায়, পিরোজপুর-২ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর শক্ত অবস্থান রয়েছে, এ আসনে  আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০১৪ সালের  ছয়টি নির্বাচনের  ৬ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১৯৮৫ সন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তিনি ৪ বার মন্ত্রীত্ব করছেন। তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিবেসেও পরিচিত। এ আসনে এর আগে বিএনপি বারবার প্রতিদ্ব›দ্বীতা করে বিশাল ব্যবধানে হেরেছেন। তবে এ আসনে ভোটের রাজনীতিতে বিজয়ের জন্য জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীর বিকল্প নেই। এ নির্বাচনী এলাকার হাটে বাজারে, চায়ের দোকানগুলোতেও একই আলোচনা হচ্ছে, শুধু সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী  প্রার্থী হলে এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করা সম্ভব ।

সাঈদী পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী নয়া দিগন্তকে জানান, ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ   নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বিজয়ী হলে এই এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। আল্লামা সাঈদীর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো এবং সুষম বন্টনের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নায়ন করবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top
Loading...