ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১১ই আশ্বিন ১৪২৪, ভোর ৫:৩৬

সন্ধ্যা নদীর বুকে ভাসমান বেদে পল্লীতে শিক্ষা কার্যক্রম

Kawkhali pic baday 1

এনামুল হক, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা ॥ পিরোজপুরের কাউখালীতে সন্ধ্যার নদীর বুকে আমরাজুড়ীর ইউনিয়নের আশোয়া গ্রামে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্ডা গ্রাম থেকে প্রায় ২০টি বেদে পরিবার জীবন জীবিকার তাগিদে নৌকায় এসে ডাঙায় ঝুপটি ঘর বেঁধে অবস্থান নেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্বে আসা এই ভাসমান বেদে পল্লীতে হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেন উপজেলা প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরু। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঐ বেদে পল্লীতে গিয়ে শিক্ষা উপকরন ও বই বিতরনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। বেদে পল্লীর বেদে মহিলারা জীবিকা নির্বাহের জন্য সাঝ সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসে পল্লীতে। রেখে যাওয়া শিশুদের দেখভাল করেন শিশুদের বাবারা। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে জীবিকা নির্বাহের জন্য ছুটে চলে বেদিনীরা। যার ফলে বেদে শিশুদের লেখাপড়া করার সুযোগ হয় না। তাই তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষা উদ্যক্তা এবং সমাজ সেবক আঃ লতিফ খসরু। বেদে পল্লীতে প্রথম ১২ জন শিশুকে নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেন। যে সকল শিশু এই শিক্ষা কার্যক্রমের অংশগ্রহণ করে তারা হলেনঃ- নুর আহম্মেদ এর ছেলে আতিনুর (১০), মাজাহারের মেয়ে জোনাকি (১১), মোল্লা সরকারের ছেলে মিজানুর (০৮), মিজানুরের মেয়ে রূপা (১০), আরজুর ছেলে নিরব (০৫), ইসমাইল এর মেয়ে সোনালী (০৬), রেজাউল করিম এর মেয়ে টিনু (০৫), যুবরাজের ছেলে নুর ইসলাম (০৭), আরজুর ছেলে অপূর্ব (০৯), নুর আহম্মেদ এর ছেলে আতিকুল (০৬), রেজাউল করিম এর ছেলে সাজিদ (০৪) এবং শহিদুল এর ছেলে জুঁয়েল (০৮)। এ ব্যাপারে আমরাজুড়ী ইউনিয়নের মাগুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “আঃ লতিফ খসরু ভাইয়ের উদ্যোগের কথা আমি শুনেছি। তার এ মহৎ উদ্যোগ প্রশংসানীয়। তার মত এ ধরনের মহৎ কাজে সমাজের অন্য সব মানুষরা এগিয়ে আসলে সমাজের হতদরিদ্র ছিন্নমূল শিশুরা কিছুটা হলেও শিক্ষার আলো দেখতে পাবে বলে আমি মনে করি।”
কাউখালী প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরু বলেন, প্রতিবন্দী স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম এর পাশপাশি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিন্নমূল শিশু এবং ভাসমান বেদে পল্লীর শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমার এ উদ্যোগ। কোন কিছু চাওয়া বা পাওয়ার জন্য আমি এই কাজটি করিনি, নিজের এক গভীর দায়বদ্ধতা থেকে এ কাজটি করছি।”
ভাসমান বেদে পল্লীর সরদার শহিদুল ফকির বলেন, “আমাদের ও আমাদের সন্তানদের কেউ যখন খোজ খবর নিচ্ছিল না ঠিক তখনি আমাদের বেদে পল্লীতে আসেন আঃ লতিফ খসরু ভাই। তিনি আমাদের খোজ খবর নিলেন এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের হাতে তুলে দিলেন বই, খাতা আর পেন্সিল।

কালর্ভাট ভেঙ্গে মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
অতিরিক্ত তাপদাহে মালয়শিয়া প্রবাসীর মৃত্যু
Top