ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ , ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫, সকাল ১১:৪৬

ড. জাফর ইকবালের উপর হামলা এবং কিছু সংখ্যা

সংখ্যা একঃ

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় যখন কোন মুসলিম নামধারী ধরা পরে তখন সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের ঐটার নিন্দা জানাতে হয় কারণ যে লোক এই কাজটি করেছে সে নিজেকে মুসলমান দাবি করে এবং ঐ সন্ত্রাসী হামলাটাকে ইসলাম দ্বারা জাস্টিফিকেশনের চেষ্টা করে। এ কারণে মুসলমানদের এটা বলতে হয় যে এই লোকটি যেটা করেছে সেটা আসলে ইসলামী আইনে সর্বচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সংখ্যা দুইঃ

ড. জাফর ইকবাল এই যুগের কিশোরদের প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হিজাব, দাড়ি, টুপি নামাজসহ ইসলামের বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে তার নিজস্ব মত প্রকাশের কারণে সমালোচিত হয়েছেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল তিনি প্রাণঘাতী হামলার স্বীকার হন। তার উপর হামলাকারীর দাবি জাফর ইকবাল তার লেখার মাধ্যমে ভ্রান্ত মতবাদ তথা নাস্তিক্যবাদ প্রচার করছেন।

সংখ্যা তিনঃ

ড. জাফর ইকবাল যে মতবাদে বিশ্বাস করেন আমাদের দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক অনেকেই সেই একই মতবাদ বিশ্বাস করেন। যে মতবাদের সারমর্ম হচ্ছে ইসলামের অধিকাংশ বিধি বিধানই প্রগতিশীলতার অন্তরায়। একারণেই বিভিন্ন সময়ে উনারা ইসলামের বিভিন্ন বিধি বিধানকে সমালোচনা করে লিখে থাকেন।

সংখ্যা চারঃ

এই সেকশনটি যারা ইসলামই আইন সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ তারা ভাল বলতে পারবেন তবে এইটা পরিষ্কার যে ইসলামী আইনের কোথাও ইসলামের বিধি বিধানের সমালোচনার জবাব অস্ত্রের মাধ্যমে দেয়ার কোন পারমিশন দেয়া হয় নাই। বিশেষ করে কোন বেসামরিক নাগরিকের হাতে তো নয়ই।

এখানে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের উল্লেখ করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে আশা করিঃ

“কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না। // এমন লোকের শাস্তি হলো আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। // সর্বক্ষণই তারা তাতে থাকবে। তাদের আযাব হালকাও হবে না এবং তার এত অবকাশও পাবে না। // কিন্তু যারা অতঃপর তওবা করে নেবে এবং সৎকাজ করবে তারা ব্যতীত, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালূ।” – সূরা আল ইমরান

এই আয়াতে ঈমান আনার পরও কাফের হয়ে যাওয়ার কারণে বলা হয় নাই তাকে ছুরিকাঘাত কর। বিশ্বাস বিষয়ক অধিকাংশ ব্যাপারেই আল্লাহ্‌ তায়ালা শাস্তির বিধান রেখেছেন তবে সেটা তার নিজ হাতের শাস্তি। এমনকি আল্লাহ্‌ ক্ষমার অপশনটিও রেখে দিয়েছেন সুতরাং কে কি বিশ্বাস করে না করে এইটার উপর ভিত্তি করে কাউকে কেউ হত্যা করলে সেটা আমি মনে করি সেটা এই আয়াতের সাথে সম্পর্কিত।

“যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে হত্যা করল, কোনো হত্যাকান্ড কিংবা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টির জন্য বিচারে শাস্তি বিধান ছাড়া, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করল। অনুরূপভাবে কেউ যদি একজনের প্রাণ রক্ষা করে, তাহলে সে যেন গোটা মানবজাতিকেই রক্ষা করল। তাদের কাছে আমার রাসুলরা সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। এর পরও তাদের অধিকাংশই এ পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে উঠেছে।” (কুরআন ৫:৩২)।

আমি নিশ্চিত যারা ইদানীং এভাবে রাস্তাঘাটে চাপাতি ছুরি দিয়ে নিজেকে ইসলামের অনুসারী দাবি করছে তারা ইসলাম সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখে না, কেবলমাত্র আবেগের অনুসারী।

সংখ্যা পাঁচঃ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে তবে এই হামলার সাথে ঐসব হামলার পার্থক্য হচ্ছে অন্যসব হামলায় এমন কাউকে টার্গেট করা হয়নি যারা ইসলাম নিয়ে লেখার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাই অন্যসব হামলার নিন্দার মত এই হামলার নিন্দাটি করা যাচ্ছিল না তাই এতসব বিষয়ের অবতারণা করতে হল।

উপসংহারঃ

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই ইসলাম ধর্মকে বুকে ধারণ করে লালন করে। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে সঠিক শিক্ষার অভাবের কারণে কিছুদিন পরপর কিছু মানুষ আবেগের বসে এমন কাজ করে বসে যার সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্ক নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top
Loading...